১০ অভ্যাস বদলে দিতে পারে আপনার জীবন

আমাদের প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত জীবনে শরীর ও মন সুস্থ থাকা খুবই জরুরি।  স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ছাড়াও কিছু অভ্যাস অনুসরণ করা আমাদের খুবই  প্রয়োজন। যে অভ্যাসগুলো আমাদেরকে সুস্থ্য থেকে আমাদের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে সহায়তা করে। এছাড়া, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চলে অনেক শারীরিক সমস্যা এড়ানো সম্ভব হয় এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকা যায়। জেনে নিই সুস্থ থাকার জন্য আমাদের কোন কোন অভ্যাস অবলম্বন করা যেতে পারে ভোরে ঘুম থেকে ওঠাভোরে ঘুম থেকে ওঠার অনেক উপকারিতা আছে। ভোরে ঘুম থেকে উঠলে মেডিটেশন বা ব্যায়াম করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। যা আমাদের পুরো দিনটি সুন্দর ও সাবলীলভাবে কাটাতে সহায়তা করব।

  1. ব্যায়াম করা ঃ প্রতিদিন সকালে উঠে ব্যায়াম করলে আমাদের দেহ ও মন সুস্থ্য থাকে। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অনেক ক্ষতিকর উপাদান অপসারণে সহায়তা করে ব্যায়াম। ব্যায়ামের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এছাড়াও ব্যায়াম ত্বক এবং চুলের জন্যও দারুণ উপকারী। 

    সকালের নাস্তাঃ অনেকেই ওজন কমানোর জন্য সকালের নাশতা বাদ দেন। কিন্তু, এক গবেষণায় দেখা গেছে সুস্থ্য থাকার জন্য সকালের নাস্তার গুরুত্ব অপরিসীম। সুতরাং সকালের  নাশতা বাদ দেওয়া ঠিক নয়। সকালের নাশতা না করলে যে কেউ বেশি ক্ষুধার্ত বোধ করতে পারে। ফলে তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলেন। এতে ওজন কমানোর পরিবর্তে আমাদের উল্টো ফলাফল হয়। 

  2. হাইড্রেটেড থাকা ঃ শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। কারণ, শরীরের কোষের সঠিক কার্যকারিতা, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের হাইড্রেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে গবেষণায় দেখা গেছে যারা সকাল ঘুম থেকে উঠে পানি পান করেন তারা সুস্থ্য থাকেন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাদের অনেক বেড়ে যায়। 

  3. কাজের তালিকা ঃ প্রতিদিনের একটি কাজের তালিকা থাকা উচিত। এটি লক্ষ্য নির্ধারণ বা সারাদিনের পরিকল্পনা করতে সহায়তা করে। তাই একটি তালিকা তৈরি করুন এবং সেটি অনুসরণ করুন। তাহলে সময়ের কাজ সময়ে শেষ করা সম্ভব হবে। আর অকারণে কোনো সময় নষ্ট হবে না। আবার বাড়তি স্ট্রেসও তৈরি হবে না।

  4. স্বাস্থ্যকর পানীয় ঃ  সুস্থ থাকতে গ্রিন টির মতো স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নিতে পারেন। গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। স্ট্রেস দূর করতে এটি দারুণ উপকারী। আমাদের মাঝে অনেকেই আছে যারা পানীয় হিসাবে কোমল পানীয়র পরিবর্তে নানা বেভারেজ পান করে ।যা আমাদের শরীরের জন্য অস্বাস্থ্যকর। 

    সক্রিয় থাকুনঃ  নিজেকে সক্রিয় রাখতে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার অভ্যাস করতে পারেন। এটি শরীরকে ফিট এবং সক্রিয় রাখবে। কিংবা সপ্তাহ শেষে বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেকিংয়ে যেতে পারেন।

    ঘরের রান্না করা খাবার খাওয়াঃ  আমাদের মধ্য বাইরের খাবার খাওয়ার প্রবণটা খুব বেশি দেখা যায়। যা বেশ খরচ সাপাক্ষ্য ও অস্বাস্থ্যকর।  রান্না করা স্বাস্থ্যকর খাবারের কোনো তুলনা হয় না। ঘরে রান্না এবং ঘরে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালোরি বা প্রোটিনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

    ভাল ঘুমঃ  ঘুম মানুষের জীবনে সুস্থ্য থাকার জন্য গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করে। সুতরাং একজন মানুষের সুস্থ্য থাকার জন্য পরিমিত ঘুমের কোন বিকল্প নেই। অলসতার মাত্রা কমাতে ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে রাতে ভালো ঘুমের বিকল্প নেই। তাই সুস্থ জীবনযাপন, শরীর ও মন সুস্থ রাখতে রাতে দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া বা জেগে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করুন। 

    সময়কে গুরুত্ব দেওয়াঃ আমরা অনেকেই সময়ের কাজ সময়ে করি না। সময়ের কাজ সময়ে না করার মানে হলো সময়কে গুরুত্ব না দেওয়া। আর সময়কে গুরত্ব না দিলে জীবনে পিছিয়ে পরতে হয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আর করা হয়ে ওঠে না। তাই সময়কে গুরুত্ব দিন, সময়ের সঠিক ব্যবহার করুন। দেখবেন জীবন বদলে যাবে।

ফিডব্যাক সমূহ

New Feedback

স্বাস্থ্য কথা

নতুন যুক্ত

Logo