যে খাবারে বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি

ক্যান্সার একটি অত্যন্ত জটিল ও মরণঘাতী রোগ। স্বাস্থ্য ও শারীরিক গঠনে যেমন খাদ্যের ভূমিকা রয়েছে তেমনি খাবারের কারনে শরীরে নানা রোগ তৈরি হয়। খাদ্যাভ্যাসের কারনে আমাদের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ক্যান্সার। যদিও ক্যান্সার তৈরি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কারন জানা যায় নি কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে কিছু খাবার রয়েছে যা ক্যান্সার তৈরির সম্ভবনা বহুগুন বাড়িয়ে দেয়। প্রধান কারণ যা ভূমিকা পালন করে তা হল জেনেটিক মেকআপ এবং পারিবারিক ইতিহাস। বাহ্যিক কারণগুলি যা ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হতে পারে যেমন জীবনধারার অভ্যাসগুলিও একটি প্রভাব ফেলে।

প্রক্রিয়াজাত খাবারঃ

প্রক্রিয়াজাত মাংস, বিস্কুট, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, ইন্সট্যান্ট নুডলস ইত্যাদি খাবার ক্যান্সার তৈরিতে ভূমিকা রাখে। প্রক্রিয়াজাত মাংস তৈরিতে ব্যবহৃত হয় কার্সিনোজেন। নাইট্রাইট দিয়ে মাংস নিরাময় করলে এন-নাইট্রোসো যৌগ নামক কার্সিনোজেন তৈরি হয়। প্রক্রিয়াজাত মাংস কোলোরেক্টাল ক্যান্সার এবং পাকস্থলী ক্যান্সার তৈরির অন্যতম বাহক। বিস্কুট, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস ইত্যাদিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স ফ্যাট, রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম রং মেশানো হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের পুষ্টি ও মহামারিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ওয়াল্টার উইলেট বলেন, ‘প্রক্রিয়াজাত মাংস, যেমন বেকন, সসেজ এবং হটডগ, নিয়মিত গ্রহণ করলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

ভাজা খাবারঃ

স্টার্চি খাবার উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলে অ্যাক্রিলামাইড নামে একটি যৌগ তৈরি হয়। এই যৌগটি ভাজা, বেকিং, রোস্টিং এবং টোস্টিংয়ের সময়ও তৈরি হতে পারে।ভাজা স্টার্চি ভাজা খাবার সহ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও আলুর চিপসে অ্যাক্রিলামাইড খুব বেশি মাত্রায় থাকে। অ্যাক্রিলামাইড ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অ্যাপোপটোসিস বা কোষের মৃত্যু ঘটায়। এই খাবারগুলো ডায়াবেটিস ও স্থূলকায় হওয়ার অন্যতম কারন এবং এই খাবার ক্যান্সার তৈরির কারন।

লাল মাংসঃ

উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা রেড মিট থেকে হেটেরোসাইক্লিক অ্যামিন এবং পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন নামক রাসায়নিক তৈরি হয়। গরু, খাসি বা ভেড়ার মাংস নিয়মিত ও অতিরিক্ত খেলে কোলন, প্যানক্রিয়াস এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে বহুগুন। পুষ্টি বিজ্ঞানী ড. কোলিন ক্যাম্পবেলের মতে, ‘উচ্চমাত্রায় প্রাণীজ প্রোটিন গ্রহণ, বিশেষ করে লাল মাংস, লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবারঃ

উচ্চ চিনি ও স্টার্চ যুক্ত খাবার খাওয়া ব্যক্তির ডায়াবেটিস ও স্থুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন কেক, পেস্ট্রি ও সফট ড্রিংক অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এটি আমাদের শরীরে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় ফলে স্তন, জরায়ু এবং কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হয়।

ধূমপান ও অ্যালকোহলঃ

প্রতিনিয়ত অ্যালকোহল গ্রহনের ফলে লিভার, মস্তিষ্ক এবং গলবিলের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে ধূমপানের ফলে আমাদের শরীরে ফুসফুস ক্যান্সার হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিদিন ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবনকারীদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক গুন বেশী।

অতিরিক্ত রান্না করা খাবারঃ

কড়া ভাজা বা গ্রিল করা খাবারে তৈরি হয় অ্যাক্রিলামাইড, এটা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডিপ ফ্রায়েড খাবারের মধ্যে কার্সিনোজেনিক উপাদানের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে আলুর চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা বারবিকিউ, আমাদের দেশীয় চপ, পিঁয়াজু, বেগুনির মতো অতিরিক্ত ভাজা করা খাবারও এই তালিকায় মধ্য পরে। তা ছাড়াও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত ভাজা খাবার খেলেও কিন্তু ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ফিডব্যাক সমূহ

New Feedback

স্বাস্থ্য কথা

নতুন যুক্ত

Logo